Al-Imaan Excellence Awards: 2026







ভূমিকা:


আল্লাহ তাআলা তাঁর অগণিত সৃষ্টির মধ্যে আদম সন্তানকে সৃষ্টির সেরা ঘোষণা করেছেন। মানুষের মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল পবিত্র কারীমে এভাবে ইরশাদ করেন,



“আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও জলে তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করেছি, তাদেরকে উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমার বহু মাখলুকের ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭ : ৭০)”।

আল্লাহ তাআলা অভিভাবক হিসেবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)কে আমাদের মাঝে প্রেরণ করেছেন। আর পাঠিয়েছেন সমস্ত সৃষ্টির ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির এক অদ্বিতীয় সংবিধান আল কুরআন। কুরআনের নির্দেশনা, বিধিবিধান এবং মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর আদর্শই আমাদের ইহকাল এবং পরকালের জীবন গঠন আর শান্তির একমাত্র পথ। প্রিয় রাসুলে কারীম (সা.) বলেন,



‘আহসানুল কালামি কালামুল্লাহ’ (সর্বোত্তম কালাম আল্লাহর কালাম)।

আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন যাদের অন্তরে কুরআন থাকবে জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তাই পবিত্র কুরআনের সঙ্গে আমাদের হৃদয়ের গভীরের সম্পর্ক থাকা অবশ্য বাঞ্চনীয়।





প্রিয় অভিভাবক,


আমাদের সন্তানের কুরআনিক লেখা-পড়ার পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা জাগতিক শিক্ষার জন্য সন্তানের পেছনে অফুরন্ত সময় ব্যয় করি। দৈনিক কয়েক বার স্কুলে, কোচিং-এ যাওয়া-আসা করি। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় মাথায় নিয়ে ছায়াহীন মাঠে, ফুটপাতে বসে, রোদে পুড়ে সন্তানের ছুটির অপেক্ষা থাকি। স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যাবতীয় শর্ত সন্তানের কল্যাণে সাদরে গ্রহণ করি।


আমাদের সন্তানদের জেনারেল পড়ালেখায় যে পরিমান ঝামেলা আমরা বহণ করি তার একদশমাংশও দোজাহানের মুক্তির পথ কুরআনিক পড়ালেখায় বহন করতে প্রস্তুত থাকি না। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সত্য যে, সন্তানের কুরআন শিক্ষা তথা দ্বীন শিক্ষার বিষয়টিকে আমাদের অধিকাংশই গুরুত্বহীন মনে করি । অথচ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,



“তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।”




প্রিয় অভিভাবক,


আমাদের মনে রাখা দরকার যে, কোমলমতি কচিকাঁচারা আমাদের কাছে আল্লাহর মহান আমানত। ইচ্ছা করলে আমরা তাদেরকে জাহান্নামের লাকড়ী হওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারি। আবার চাইলে জান্নাতের পথে আগুয়ান হওয়ার পরিবেশেও লালন-পালন করতে পারি, আল্লাহ তাঁর মহান আমানত শুদ্ধভাবেই আমাদের কাছে‘ পেশ করেছেন। হাদীসের ভাষ্যমতে-



“প্রতিটি মানবশিশুই সত্য স্বভাব নিয়ে জন্মলাভ করে। তারপর তার পিতা-মাতাই ঈমান ও সত্য থেকে তাকে বিচ্যুত করে, ইহুদী নাছারা বা অগ্নিপূজারি কিংবা তাদের অনুগামী বানায়।”

যদি আমরা তাদের সঠিক পথ না দেখাই তবে কেয়ামতের মাঠে আমাদের মহা বিপদে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবিষয়ে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন,



“(তরজমা) হে আমাদের প্রতিপালক! যেসব জ্বিন ও মানব আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকে দেখিয়ে দাও আমরা তাদের পদদলিত করবো যাতে তারা লাঞ্ছিত হয় (সূরা হা-মীম সাজদা ২৯)।”

অতএব, শুধু পুঁথিগত যোগ্যতা নয় বরং আমাদের সন্তানদের কুরআনিক শিক্ষার আলোয় প্রকৃত ঈমানদার মানুষ হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে, পড়া-লেখার মান উন্নয়নের পাশা-পাশি সার্বিক আচার-আচরণ, নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, নেতৃত্ব, সেবাসহ সকল মানবীয় গুণাবলি কতটা বিকশিত হয়েছে তা যাচাইয়ের উপরও জোর দিয়ে থাকি।


এসকল গুণাবলির উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ বর্ষসেরা শিক্ষার্থী (Student of the year) নির্ধারণ করাকে আমরা জরুরি মনে করছি। এর ফলে শিক্ষার্থীর মনে শিক্ষা অর্জনের “উদ্দেশ্য”, “প্রেরণা” এবং “স্বীকৃতি” কাজ করবে।





প্রিয় অভিভাবক,


আজকের কন্যা শিশুই আগামী দিনের “মা”। একজন আদর্শ মা’ই পারেন আদর্শ সন্তান, পরিবার, সমাজ, জাতি তথা দেশ তৈরি করতে। এজন্য আজকের কন্যা শিশুকে আগামী দিনের আদর্শ মা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শুধু পুঁথিগত বিদ্যা মেধা বিকাশে যথেষ্ট নয়, এর পাশা-পাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণে উদ্বুদ্ধ করা, সেবা, দেশপ্রেম এবং আল্লাহর দ্বীনের পথে মেহনত করার মানসিকতাও জরুরি।


বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে অবহেলিত শাখা হলো ক্বওমী নেসাবে মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা। অবহেলিত এই মহাসমুদ্রে আল-ঈমান গার্লস মাদরাসা একটি ব্যতিক্রমী কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি জেনারেল ও কওমী কারিকুলামের সমন্বয়ে আধুনিক সকল সুবিধায় কোমলমতি কন্যা শিশুদের একজন আদর্শ নারী এবং দ্বীনের দাঈ হিসেবে গড়ে তোলার আন্তরিক চেষ্টা করে যাচ্ছে।


এউদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে আল-ঈমান গার্লস মাদরাসা ক্লাসের বেস্ট স্টুডেন্টদের (শ্রেণির সেরা শিক্ষার্থীদের) স্কলারশিপ-২০২৫ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।





উদ্দেশ্য:


স্কলারশিপ একধরনের সম্মান ও স্বীকৃতি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো:



  • শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ
    (Academic + Behavioral + Moral + Co-curricular Activity)
  • ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করা।
  • শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণে উদ্বুদ্ধ করা
  • যারা নিয়মিত ভালো করছে, তাদের পুরস্কার
  • অন্যদের অনুপ্রেরণা
  • আল্লাহর দ্বীনের পথে মেহনত করার উৎসাহ দেওয়া
  • আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা


Al-Imaan Excellence Awards: 2026 এর প্রকার:

১) সম্মিলিত মেধাতালিকা অনুযায়ী ১ম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীকে AL-Imaan Excellence Award of the year-2026 ঘোষণা করা
২) মাদরাসার সেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতে নির্দিষ্ট মানদন্ড অনুযায়ী মেধাস্কর এর ভিত্তিতে ০৫ (পাঁচ) জন শিক্ষার্থী এই Award প্রাপ্য হবে
৩)  বার্ষিক মূল্যায়নে শ্রেণিতে মেধাস্থান অনুযায়ী শ্রেণিভিত্তিক ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান অর্জনকারী সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচন করা

Al-Imaan Excellence Awards-2026 নির্ণয়ের মূল ভিত্তি (Principles):

৯টি নীতি (9 Principles) এর উপর ভিত্তি করে Al-Imaan Excellence Awards-2026 নির্বাচন করা হবে। বিস্তারিত নিম্নে উল্লেখ করা হলো:


১. শিক্ষাগত যোগ্যতা (Academic Performance)

২. দ্বীনি শিক্ষা ও আমল (Islamic Knowledge & Practice)

৩. আচরণ ও নৈতিকতা (Character & Manners)

৪. উস্তাদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য (Responsibilities and duties to Teachers)

৫. উপস্থিতি ও নিয়মানুবর্তিতা (Attendance & Punctuality)

৬. খেদমত ও দায়িত্বশীলতা (Service & Responsibility)

৭. মনোভাব ও মনোযোগ (Attitude & Diligence)

৮. পরিপাটি, শালীন ও বিনয়ী থাকা (Modesty & Cleanliness)

৯. সামাজিক ও সহ-পাঠ কার্যক্রম (Social and co-curricular activities)


মূল্যায়ন কমিটি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি:

মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা, মুহতামিম, শিক্ষক, উস্তাদ, পরিচালকসহ মূল্যায়নে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট মূল্যায়ন কমিটি। বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত শিক্ষার্থীদের তথ্য নির্ভর মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী মূল্যায়ন করা:


পুরস্কার/অ্যাওয়ার্ড/স্বীকৃতি:

১) Al-Imaan Excellence Award of the year-2026:

২০২৬ সালে মাদরাসার সেরা (Best) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত ১জন শিক্ষার্থীকে এই স্কলারশিপের আওতায় এককালিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন আকর্ষনী পুরস্কার ও সুবিধাদি প্রদান করা হবে:


২) শ্রেণিতে সেরা শিক্ষার্থী (Best Student of the Class):

বিভিন্ন শ্রেণি হতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদেরকে এই স্কলারশিপের আওতায় মেধাক্রম অনুযায়ী এককালিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন আকর্ষনী পুরস্কার ও সুবিধাদি  প্রদান করা হবে:


নির্দিষ্ট সময় ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়া:

স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী যেন পরবর্তীতে অলসতায় বা অন্য কোনো কারণে পিছিয়ে না পড়ে সেলক্ষ্যে-


বছরে একবার বা ৬ মাসে একবার স্কলারশিপ রিভিউ করা
মূল্যায়ন কমিটি মিটিংয়ের মাধ্যমে রিভিউ করবে
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচিতি দিয়ে রিভিউকৃত ফলাফল ঘোষণা করা

ঘোষণা ও প্রদানের পদ্ধতি:


  • উৎসবমুখর পরিবেশে ইন-হাউজ “Al-Imaan Excellence Awards -2026 প্রদান অনুষ্ঠান” এর আয়োজন করা
  • সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং তাদের উপস্থিতিতে স্কলারশিপ ঘোষণা করা
  • প্রতিটি বিজয়ীকে সনদ প্রদান করা
  • ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে “স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠান” আয়োজন করা হবে ইন-শা-আল্লাহ





Follow us on Facebook